পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ মা।

শেয়ার করুন প্লিজ

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ মা। ছোট্ট এই শব্দটির মাঝেই লুকিয়ে আছে জগতের শ্রেষ্ঠ, পবিত্র, অকৃত্রিম ও অতুলনীয় ভালোবাসা। ১০ মেছিল মা দিবস। এই বিশেষ দিনটি নিয়ে লিখেছেন বাশার খান

মা দিবসের উৎপত্তি : ১৯১৪ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মার্কিন কংগ্রেস ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে ‘মা দিবস’ পৃথিবীব্যাপী পালিত হচ্ছে।
আনা জার্ভিস নামে এক নারী বাস করতেন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টি ও ওহাইওর মধ্যবর্তী জায়গা ওয়েবস্টার এলাকায়। আনা জার্ভিসের মা অ্যান মেরি রিভস তাঁর সারা জীবন ব্যয় করেন এতিম ও আঁতুরে রোগীদের সেবায়। মা অ্যান মেরি মারা যান ১৯০৫ সালে। মায়ের মৃত্যুর পর মেয়ে আনা জার্ভিস তার মায়ের মহৎ কাজকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। 
১৯০৭ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ছিল আনা জার্ভিসের মায়ের মৃত্যুদিবস। দিনটিকে তিনি মা দিবস হিসেবে পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে চিঠি লেখা শুরু করেন। চিঠিতে সবাইকে মা দিবসের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরের বছরই ফিলাডেলফিয়া রাজ্যে পালিত হয় মা দিবস। ১৯১২ সালে আনা প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার’স ডে অ্যাসোসিয়েশন (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি)। 
আনা জার্ভিসের সাত বছর চেষ্টার পর মার্কিন সরকার ১৯১৪ সালে মা দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভবে স্বীকৃতি দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।
এদিকে বলা হয় বৃটেনে সর্বপ্রথম মা দিবস পালন শুরু হয়। কারণ দেশটিতে প্রতিবছর মে মাসের চতুর্থ রোববার মাদারিং সানডে হিসেবে পালন করা হতো।
অপর এক সূত্রমতে, মা দিবসের সূত্রাপাত হয় প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে। গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী ‘সিবেল’কে সম্মান জানাতে দিবসটি পালিত হত।
প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গ করা হতো একটি দিন। সে দিন মায়েদেরকে সুন্দর সুন্দর উপহার দিত সন্তানরা।
মায়ের সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত : বিভিন্ন ধর্মীয় কাহিনিতে শুনেছি, পুণ্যের আশায় মাকে মাথায় নিয়ে কোনো কোনো সন্তান দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়িয়েছেন। ইসলামধর্মের সাধক হযরত বায়জীদ বোস্তামী (র.) পানি নিয়ে মায়ের শিয়রে সারারাত দাঁড়িয়েছিলেনÑ মা কখন জেগে পানি চায়, সে অপেক্ষায়। হিন্দুধর্মের শ্রবণ কুমার তার অন্ধ মাকে কাঁধে নিয়ে গয়া-কাশি গিয়েছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল মায়ের চোখে আলো ফিরিয়ে আনা।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার তার অসুস্থ মাকে নিয়ে অনন্যদৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। মাকে মাথায় বহন করে ১০ মাইল দূরের জিয়ানগরে নিয়ে চিকিৎসা করান। ধীরেন্দ্রনাথের মা উষা রানী মজুমদারের বয়স ১১০। অর্থের অভাবে খেয়ে না খেয়ে সংসার চললেও মায়ের চিকিৎসা করাতে ভুল করেন না ধীরেন। ঝুড়িতে করে মাকে নিয়ে যান ডাক্তারের কাছে।
ধীরেন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার পরে মারেই ভক্তি করি। মায়রে মাথা নিয়া আটতে (হাঁটতে) মোডেও কষ্ট অয় না। টাহার অভাবে মায়রে ডাক্তার দেহাইতে অনেক কষ্ট অয়। হ্যার পরেও (তার পরেও) মায়রে মাথায় লইয়া হাঁটু সমান কাদা ভাইঙ্গা আইতে কোনো কষ্ট ঠেহি না (কোনো কষ্ট হয় না)।
আমরা সমাজের সামর্থবানরা ধীরেন্দ্রনাথের মাতৃসেবার অনন্য মিশনে অংশ নিতে পারি। বাড়িয়ে দিতে পারি সহযোগিতার হাত। বাগেরহাটের ধীরেন্দ্রনাথ হোক মা দিবসে মাতৃভক্তিতে আমাদের প্রেরণা।
শেয়ার করুন প্লিজ

লেখক : verified_user

0 comments: